আলহামদুলিল্লাহ। অত্যন্ত আনন্দের সাথে জানাচ্ছি যে- তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি নির্ভর-বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায়, তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করণের লক্ষ্যে জোড়শিমুল উচ্চ বিদ্যালয়ও বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির হাইওয়ে ধরে ইন্টারনেট জগতে প্রবেশ করেছে। এই ওয়েব সাইটের মাধ্যমে তথ্যের অবাধ বিনিময় অধিকতর সহজ ও সুলভ করে এই বিদ্যাপীঠ ও এর কার্যক্রমের তথ্যাবলি শিক্ষক- শিক্ষার্থী- অভিভাবক, শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তর এবং অন্যান্য সরকারি/বেসরকারি অফিসসহ সকলের নাগালে দ্রুত পৌঁছে দে’য়াই আমাদের অন্যতম মূল লক্ষ ও উদ্দেশ্য। এর মাধ্যমে স্বচ্ছতা, গতিশীলতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে দুর্নীতিমুক্ত শিক্ষাব্যবস্থা তথা সুন্দর একটি সমাজ- রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করাই আমাদের ব্রত। ওয়েব সাইটটি বর্তমান সরকারের “ডিজিটাল বাংলাদেশ” গড়ার ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করবে এবং তৃণমূল পর্যায়ে সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে সেবার মান বৃদ্ধি ও উন্নত করবে- এ লক্ষে ওয়েব সাইটটি যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে সকলের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করি। সর্বশেষে, এর সাথে সংশ্লিষ্ট সকল কলা-কুশলীদের জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ।
শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড। কাজেই সবার জন্য শিক্ষা নিশ্চিত করণের লক্ষ্যে জোড়শিমুল উচ্চ বিদ্যালয় একাগ্র চিত্তে কাজে করে যাচ্ছে। এ অধিকারকে যথাযথভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিশ্বের অনেক দেশ আজ উন্নতির চরম শিখরে আরোহণ করেছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে সাধ্যমত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যুগের সাথে সংগতিপূর্ণ বিকাশের জন্য আমরা প্রত্যেকেই ভাবি নিজ নিজ সন্তানদের নিয়ে। প্রকৃতির সন্তান মানব শিশুকে পরিশুদ্ধ হতে হয়, পরিপুর্ণ হতে হয় স্বীয় সাধনায়। এ ক্ষেত্রে শিক্ষায় হলো আমাদের মূলমন্ত্র। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি শিক্ষার মৌলিক উদ্দেশ্য হলো আচরণের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন। আর এ লক্ষ্যে তাদেরকে সৃজনশীল, স্বাধীন, সক্রিয় এবং দায়িত্বশীল সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা। এ জন্য প্রয়োজন যোগ্য শিক্ষকমন্ডলী এবং উপযুক্ত শিক্ষাদান পদ্ধতির সমন্বয়ে একটি শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ। আমি বিনয়ের সাথে দাবী করি জোড়শিমুল উচ্চ বিদ্যালয়ে এসব কিছুর সমন্বয় ঘটানো সম্ভব হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মজ্জাগত প্রতিভা সহজে বিকাশের জন্য প্রতিষ্ঠানটিতে রয়েছে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক, খেলাধুলাসহ নানাবিধ শিক্ষা।
তথ্য ও যোগাযোগের প্রযুক্তি (ICT) মানুষের জীবন ধারণের পদ্ধতিকে বদলে দিয়েছে- জীবনকে করেছে সহজ ও আনন্দময়। শিক্ষাক্ষেত্রে, তথ্য ও যোগযোগ প্রযুক্তি যোগ করেছে নতুন মাত্রা।তথ্য ও যোগাযোগের প্রযুক্তির ব্যবহার স্থান করে নিয়েছে গ্রামের বিদ্যালয়ের সেই ছোট্ট শ্রেণিকক্ষে ও। জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০-এর আলোকে আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান এবং সকল ক্ষেত্রে তথ্য ও যোগযোগ প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে ডিজিটাল বাংলাদেশের যোগ্য রূপকার হিসাবে গড়ে তোলে ‘‘ভিশন ২০২১’’ বাস্তবায়নের জন্য এই ওয়েবসাইট অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে আমি বিশ্বাস করি। মূলত শিক্ষকমন্ডলী, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকবৃন্দের নিকট তথ্য, উপাত্ত সহজে ও দ্রুততার সহিত পৌঁছানো এবং তথ্য প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তর এবং অন্যান্য সরকারি অফিসের যোগাযোগ রক্ষা করা এই ওয়েবসাইটের লক্ষ্য। এই ওয়েবসাইটটি খোলার মাধ্যমে এ বিদ্যালয়ের সামগ্রিক মান উন্নয়ন ও তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করণে একটি নতুন মাত্রা যুক্ত হবে এই প্রত্যাশা করছি।
ঐতিহ্যবাহী বগুড়া জেলার ধুনট উপজেলাধীন জোড়শিমুল উচ্চ বিদ্যালয়টি ১৯৬৭ সালে ১৫৬ শতক জমির উপর প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে চিকাশী ইউনিয়নটি দুই ভাগে বিভক্ত ছিল – উত্তর এলাকা ও দক্ষিন এলাকা মাঝখানে ছিল বিশাল ফাঁকা মাঠ বর্ষকালে এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় যেতে খুব কষ্টকর ছিল। তাই এলাকার শিক্ষানুরাগী ব্যাক্তি বর্গ এখানে একটি বিদ্যালয় নির্মানের চিন্তা করে। সেই চিন্তা থেকে মরহুম তমিজ উদ্দিনের অনুদানে প্রথম তমিজ উদ্দিন জুনিয়র স্কুল নামে স্কুলটি প্রতিষ্টিত হয়। পরবর্তীতে ১৯৭০ সালে মরহুম মহির উদ্দিন, মরহুম মোকবুল হোসেন সরকার মরহুম এজার আকন্দ, মরহুম জালাল সরকার দাতা সদস্য হয়ে বিদ্যালয়টি তমিজ উদ্দিন জুনিয়র স্কুল নাম পরিবর্তন করে জোড়শিমুল উচ্চ বিদ্যালয় নাম করণ করেন। অত্র বিদ্যালয়ের প্রথম প্রধান শিক্ষক ছিলেন মোঃ নুরুল ইসলাম। ১৯৮৫ সালে বিদ্যালয়টি এমপিভুক্ত হয়। বিদ্যালয়টি সারিয়াকান্দি-ধুনট-পাকা রাস্তা সংলগ্ন জোড়শিমুল বাজারে পাশে অবস্থিত। ধুনট সদর থেকে ১১ কিলোমিটার উত্তর অবস্থিত। ধুনট সদরের সাথে যোগাযোগের রাস্তা পাকা। বিদ্যালয়টি অত্যন্ত মনোরম পরিবেশে অবস্থিত । বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা প্রায় ৫০০। ফলাফলের দিক দিয়ে বরাবরই ভাল। ভাল ফলাফলের জন্য বিদ্যলয়টি ২০০৭ সালে ১,৩০,০০০ টাকা অনুপ্রেরনা পুরষ্কার পায়। বিদ্যালয়টিতে ১টি ১তলা ২টি আধা পাকা ও ১টি চারতলা ভবন আছে। ২০১৯ সালে চারতলা ভবন নির্মিত হয়। বিদ্যালয়ের পড়াশোনার মান খুব ভালো। দক্ষ-শিক্ষক মন্ডলী ও পরিচালনা কমিটি দ্বারা বিদ্যালয়টি পরিচালিত হয়ে আসছে।